মুহূর্ত
ফুলশয্যা: শুভ মুহূর্ত
বিয়ের পর দম্পতির গার্হস্থ্য জীবনের পবিত্র সূচনা ফুলশয্যা, শাস্ত্রে গর্ভাধান সংস্কার। বাঙালি রীতিতে সাধারণত বউভাতের রাতে এটি হয়, তবু শুভ রাত দেখে নেওয়া হয়।
- অনুকূল নক্ষত্র
- রোহিণী, মৃগশিরা, উত্তর ফাল্গুনী, হস্ত, অনুরাধা, স্বাতী, রেবতী
- অনুকূল তিথি
- রিক্তা বাদে শুক্লপক্ষের তিথি
- যে শহরে দেখা হয়েছে
- কলকাতা
ফুলশয্যা প্রসঙ্গে
বিয়ের পর দম্পতির গার্হস্থ্য জীবনের পবিত্র সূচনা ফুলশয্যা, শাস্ত্রে গর্ভাধান সংস্কার। বাঙালি রীতিতে সাধারণত বউভাতের রাতে এটি হয়, তবু শুভ রাত দেখে নেওয়া হয়।
আলাদা মুহূর্ত কেন
দুজনের জন্মরাশি থেকে অষ্টমে চন্দ্র নেই, অমাবস্যা বা গ্রহণ নেই এমন রাত বাছা হয়। ভরণী, কৃত্তিকা, অশ্লেষা এড়ানো হয়; রোহিণী, তিন উত্তরা, হস্তা, স্বাতী, অনুরাধা, রেবতী শুভ।
সেই সন্ধ্যা
রজনীগন্ধা আর গোলাপে খাট সাজানো হয়, কনের বাপের বাড়ি থেকে আসে তত্ত্ব। ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বেলে দুজনের মিল আর সুসন্তানের জন্য প্রার্থনা করা হয়।
সময় বাছাই
শুভ দিন পাওয়ার পর সেদিনের রাহুকাল, যমগণ্ড আর গুলিককাল বাদ দিয়ে শুভ হোরা বা অভিজিৎ মুহূর্তে কাজ শুরু করাই প্রথা। মূল মুহূর্তটি যাতে বলবান স্থির লগ্নে পড়ে, পুরোহিত মশাই পঞ্জিকা দেখে সেই সময় ঠিক করে দেন।
বাড়ির প্রস্তুতি
অনুষ্ঠানের আগে বাড়ি পরিষ্কার করে, দরজায় আমপাতা আর মঙ্গলঘট বসিয়ে, উঠোনে আলপনা দিয়ে, ঠাকুরঘরে প্রদীপ জ্বেলে গণেশ পুজো দিয়ে শুরু করার রীতি। কুলদেবতাকে স্মরণ করে গুরুজনদের আশীর্বাদ নিতে ভুলবেন না।
ফুলশয্যা অনুষ্ঠানের শাস্ত্রীয় নিয়ম
অনুকূল নক্ষত্র: রোহিণী, মৃগশিরা, উত্তর ফাল্গুনী, হস্ত, অনুরাধা, স্বাতী, রেবতী। অনুকূল তিথি: রিক্তা বাদে শুক্লপক্ষের তিথি। এড়িয়ে চলুন: রিক্তা তিথি (চতুর্থী, নবমী, চতুর্দশী), অমাবস্যা, ভরণী, কৃত্তিকা, অশ্লেষা।
দিনগুলি কীভাবে বাছা হয়েছে
এই তালিকা কলকাতা শহরে সূর্যোদয়ের সময় এই অনুষ্ঠানের অনুকূল নক্ষত্র ও তিথি দুটোই মেলে এমন দিনগুলি দেখায়। পূর্ণ মুহূর্তের জন্য বার, যোগ, করণ, লগ্ন, রাহুকাল আর সংশ্লিষ্ট মানুষদের কোষ্ঠীও দেখা হয়; তাই এই তালিকা থেকে দিন বেছে নিন, আর সঠিক সময় মুহূর্ত খোঁজে ঠিক করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ফুলশয্যা অনুষ্ঠানের জন্য কোন নক্ষত্র শুভ?
প্রথা অনুযায়ী অনুকূল নক্ষত্র: রোহিণী, মৃগশিরা, উত্তর ফাল্গুনী, হস্ত, অনুরাধা, স্বাতী, রেবতী।
ফুলশয্যা অনুষ্ঠানের জন্য কোন তিথি শুভ?
অনুকূল তিথি: রিক্তা বাদে শুক্লপক্ষের তিথি। দুই পক্ষেই এগুলি গোনা হয়।
ফুলশয্যা অনুষ্ঠানে কী এড়িয়ে চলা উচিত?
শাস্ত্র যা এড়াতে বলে: রিক্তা তিথি (চতুর্থী, নবমী, চতুর্দশী), অমাবস্যা, ভরণী, কৃত্তিকা, অশ্লেষা।
এই দিনগুলি কি সব শহরে খাটে?
দিনগুলি কলকাতা শহরের সূর্যোদয় ধরে দেখা হয়েছে। নক্ষত্র ও তিথি বদলের মুহূর্ত সব জায়গায় এক হলেও স্থানীয় সময় আলাদা, তাই নিজের শহরের পঞ্জিকা দেখে নিন।
ব্যক্তিগত মুহূর্ত কি তবুও দরকার?
বড় সংস্কারের জন্য দরকার। তারাবল, চন্দ্রবল আর কাজের লগ্ন সংশ্লিষ্ট মানুষদের কোষ্ঠী দেখে ঠিক হয়।
তালিকায় কতগুলি দিন আছে?
আগামী ষাট দিনে নক্ষত্র ও তিথি দুই নিয়মই মেলে এমন বারোটি পর্যন্ত দিন।
রাহুকাল কি দেখা হয়েছে?
রাহুকাল সারা দিনের নিয়ম নয়, দিনের একটি অংশ। সঠিক সময় ঠিক করার সময় তা এড়িয়ে চলুন; প্রতিটি দিনের পঞ্জিকা পাতায় তা দেওয়া আছে।
অন্য অনুষ্ঠানের জন্যও কি খোঁজা যায়?
যায়। মুহূর্ত খোঁজ আরও অনেক কাজের জন্য দিনগুলি ক্রমানুসারে দেখায়, আর আপনার জন্মের তথ্যও যোগ করা যায়।
ফুলশয্যা অনুষ্ঠানের মুহূর্ত কি আমাদের কোষ্ঠী অনুযায়ী বদলানো যায়?
যায়। সাধারণ মুহূর্ত সবার জন্য শুভ সময় দেখায়; পরিবারের জ্যোতিষী সংশ্লিষ্ট মানুষদের জন্মনক্ষত্র আর চলতি দশা দেখে তার মধ্যে সেরা সময়টি বেছে দেন।
শুভ দিন না পেলে ফুলশয্যা কীভাবে করব?
হাতে থাকা দিনগুলির মধ্যে সেরাটি বেছে, গণেশ আর কুলদেবতার পুজো দিয়ে শুরু করে, মূল মুহূর্তটি বলবান লগ্নে বা অভিজিৎ মুহূর্তে রাখাই প্রথা।
ফুলশয্যা অনুষ্ঠানের জন্য দিনের কোন সময় ভালো?
সাধারণত সকাল বা দুপুরের আগের সময় পছন্দ করা হয়। রাহুকাল, যমগণ্ড আর গুলিককাল বাদ দিয়ে শুভ হোরায় শুরু করার রীতি।