বিষয়বস্তুতে যান

বাস্তু কর্মশালা

আপনার বাসস্থান, আচার্যদের চোখে দেখা।

নকশা তুলুন বা ছকে গড়ুন। ষোলো অঞ্চল, মর্মস্থান, পঞ্চভূত, আপনার, পরিবারের বা অংশীদারদের জন্য।

NNEESESSWWNW

সাধনা

নকশাকার

মাপমতো আঁকুন, সঙ্গে সঙ্গে ঘরের বিচার।

সাধনা

নির্মাতা

একই আঁকার বোর্ড, ঘরের বড় তালিকাসহ।

সাধনা

নকশা তুলুন

নকশার ছবি বা স্ক্যান থেকে শুরু করুন।

সাধনা

বাস্তু ওএস

আঁকা থেকে প্রতিবেদন, সব ধাপ এক জায়গায়।

সাধনা

বাস্তু প্রতিবেদন

আপনার নকশার ছাপার উপযোগী প্রতিবেদন।

সাধনা

ষোলো অঞ্চল

প্রতিটি অঞ্চল, তার ভূত আর সেখানে কী মানায়।

সাধনা

প্রকৃত উত্তর

উত্তরের কোণ ঠিক করে নকশায় পাঠান।

সাধনা

৪৫ দেবতা

৮১ ঘরের মণ্ডল ও ৩২ দ্বার।

সাধনা

রঙের নির্দেশিকা

মুখ অনুযায়ী উল্লিখিত রং।

সাধনা

আয়াদি

জমির পরিসীমা থেকে নয়টি ভাগশেষ।

সাধনা

থালাভারা কক্ষ মাপ

থালাভারা ক্যালকুলেটর খুলুন

সাধনা

সুগন্ধ বাস্তু

অঞ্চল ও ভূত অনুযায়ী সুগন্ধের পরিবার। চিকিৎসার পরামর্শ নয়।

সাধনা

বাস্তু ও ফেং শুই

একই নকশায় মণ্ডল আর বাগুয়া, আপনার কুয়া দিক আর ২০২৬ সালের তারা।

সাধনা

জ্যোতিষ-বাস্তু

কোষ্ঠীর পাশে রেখে বাড়ির বিচার।

সাধনা

প্রতিকারের ঝুলি

যে অঞ্চলে যত্ন দরকার তার স্থান-সংশোধন।

সাধনা

পাঠশালা

ধাপে ধাপে বাস্তু শেখার পাঠক্রম।

সাধনা

সম্পত্তি ও অবস্থান

কেনার আগে জমি, রাস্তা ও অবস্থানের যাচাই।

সাধনা

বাড়ির নকশাকার

বাস্তু নম্বরসহ নকশার বিকল্প, কথায় রদবদল, পরিমাণ ও খরচ।

নকশার পিছনের ঐতিহ্য

বাস্তু কীভাবে বাড়ি পড়ে

বাস্তুশাস্ত্র ভারতের প্রাচীন বিদ্যা, যাতে বাড়ি জমি, সূর্য ও দিকের সঙ্গে মানিয়ে গড়া হয়। এগুলি তার আচার্যদের দিয়ে যাওয়া ভাবনা।

বাস্তুপুরুষ

গ্রন্থে আছে এক বিশাল সত্তার কথা, যিনি পৃথিবীতে পড়েছিলেন আর দেবতারা তাঁর দেহের এক এক অংশে বসে তাঁকে চেপে রেখেছিলেন। তিনি উপুড় হয়ে শুয়ে, মাথা ঈশানে, পা নৈঋতে। প্রতিটি জমি আঁকা হয় তাঁর মণ্ডল হিসেবে, ঘরের ছক, আর প্রতিটি ঘর বসে সেখানে যেখানে তার রক্ষক দেবতা বিশ্রাম নেন বলে বলা হয়।

খোলা কেন্দ্র

মণ্ডলের হৃদয়ে ব্রহ্মা। ঐতিহ্য এই ব্রহ্মস্থানকে হালকা ও খোলা রাখে, যেমন পুরোনো কেরল, তামিল ও রাজস্থানি বাড়ির উঠোন, কিংবা বাংলার ঠাকুরদালান-ঘেরা উঠোন, আলো-বাতাস বাড়ির মাঝখানে টেনে আনে।

পঞ্চভূত

প্রতিটি দিক একটি ভূতের সঙ্গে যুক্ত। ঈশান জলের, তাই কুয়ো ও ঠাকুরঘর সেখানে। অগ্নিকোণ আগুনের, রান্নাঘরের চিরাচরিত আসন। বায়ুকোণে বাতাস বয়, নৈঋতে পৃথিবী ভার জোগায়, আর কেন্দ্রে আকাশ খোলে।

সূর্যের পথ

আচার্যরা দিনভর সূর্যকে অনুসরণ করতেন: ঘুম ভাঙা ও পুজোর জন্য পূর্বের নরম ভোরের আলো, আর নৈঋতের কড়া বিকেলের রোদ আটকাতে ভারী দেওয়াল ও কম জানালা। নকশা দিনের যাপন মেনে চলে।

প্রকৃত উত্তর ও কম্পাস

জমির কেন্দ্র থেকে কম্পাসে দিক পড়া হয়, আর চিরাচরিত গ্রন্থ কোনো দেওয়াল আঁকার আগেই ছককে মূল দিকগুলির সঙ্গে মিলিয়ে নেয়। তাই এখানে প্রতিটি বাস্তু বিচার শুরু হয় জমির মুখ কোন দিকে সেই প্রশ্নে।

বাড়ির শ্বাস

উত্তর ও পূর্বে দরজা-জানালা আর খোলা মধ্যভাগ বাড়িকে শ্বাস নিতে দেয়, ঐতিহ্য যেমন বলে। দরজা-জানালা এমনভাবে বসে যাতে বাতাস কোণে আটকে না থেকে ঘরের মধ্য দিয়ে বয়ে যায়।

এটি কী?

একটি তলার নকশা ঘিরে বাস্তুর সরঞ্জাম: মাপমতো আঁকুন, প্রকৃত উত্তর ঠিক করুন, অঞ্চল ধরে প্রতিটি ঘরের বিচার করুন, সদর দরজা যাচাই করুন, প্রতিবেদন ছাপুন।

বিস্তারে

বিচার চলে ষোলো-অঞ্চল পদ্ধতিতে: জমিকে কেন্দ্র ঘিরে ২২.৫° করে ষোলোটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়, আর প্রতিটি ঘরের বিচার হয় সে যে অঞ্চলে পড়ে তা দিয়ে। দ্বারের বিচার হয় ৩২ পদের বলয়ে। অঞ্চলের বল মাপা হয় প্রতিটি অঞ্চলের মেঝের আয়তনকে গড়ের সঙ্গে তুলনা করে। যেখানে সূত্র নীরব, যেমন মর্মস্থানের সঠিক অবস্থান বা দুই পদে ছড়ানো দরজার বিচার, সেখানে সরঞ্জাম আন্দাজ না করে সেটাই জানায়।

প্রশ্নোত্তর

›নিখুঁত নকশা লাগবে কি?

মাপমতো একটি খসড়াই যথেষ্ট। বাইরের দেওয়াল ও ঘর আঁকুন, সদর দরজা চিহ্নিত করুন, প্রকৃত উত্তর ঠিক করুন। নকশার ছবির উপর এঁকে একটি জানা দৈর্ঘ্যে মাপ মেলাতে পারেন।

›প্রকৃত উত্তর এত জরুরি কেন?

প্রতিটি অঞ্চল প্রকৃত উত্তর থেকে মাপা। কয়েক ডিগ্রির তফাতে ঘর বা দরজা পাশের অঞ্চলে বা পদে সরে যেতে পারে।

›বিচারগুলি কি চূড়ান্ত পরামর্শ?

প্রতিটি অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত সূত্র কী বলে তা দেখায়। নির্মাণের সিদ্ধান্তে যোগ্য স্থপতি বা বাস্তু পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বলুন।

বাস্তুশাস্ত্র

আপনার বাড়ির বাস্তু, দিক ধরে ধরে

বাস্তুশাস্ত্র হল গৃহনির্মাণের সেই প্রাচীন ভারতীয় বিদ্যা, যা ময়মত আর মানসারের মতো গ্রন্থ থেকে আজও সেই মিস্ত্রির হাতে বেঁচে আছে যিনি রান্নাঘর অগ্নিকোণে বসান। বাংলার পুরনো বাড়ির উঠোন, পূর্বমুখী ঠাকুরঘর আর উঠোনের কোণে তুলসীমঞ্চ এই জ্ঞান থেকেই এসেছে। এই পাতায় সবকিছু এক জায়গায়: বাড়ির নকশা মাপ মতো আঁকুন, আসল উত্তর ঠিক করুন, ষোলোটি দিক আর পঁয়তাল্লিশ দেবতা দেখুন, রং আর প্রতিকার বেছে নিন, তারপর পরিবার বা মিস্ত্রিকে দেখানোর মতো প্রতিবেদন ছাপুন।

বাস্তুপুরুষ আর ষোলোটি দিক

পুরাণে আছে, এক বিশাল দেহধারী পৃথিবীতে পড়লে পঁয়তাল্লিশ দেবতা তাকে চেপে ধরে রাখেন, মাঝখানে বসেন ব্রহ্মা। তার দেহই বাস্তুপুরুষ মণ্ডল, সেই চৌকো ছক যেখান থেকে প্রতিটি বাস্তু বিচার শুরু হয়। বাড়ির কেন্দ্রের চারপাশে ষোলোটি দিক, প্রত্যেকটির নিজের ভূত আর নিজের কাজ: ঈশান কোণ পুজো আর জলের, অগ্নিকোণ আগুন আর রান্নার, নৈর্ঋত কোণ কর্তার শোবার ঘর আর স্থিরতার, উত্তর কুবেরের, ধন আর সুযোগের। এই পাতার দিকচক্র ষোলোটি ভাগ পদ সমেত দেখায়।

নকশা আঁকা আর আসল উত্তর

বাস্তু বিচার ঠিক ততটাই নির্ভুল যতটা নির্ভুল তার উত্তর দিক। প্ল্যানারে ঘরগুলো মাপ মতো আঁকুন, অথবা পুরনো নকশার ছবি তুলে তার ওপর রেখা টানুন। তারপর কম্পাস খুলে বাড়ির মাঝখানে ফোন হাতে দাঁড়ান আর আসল উত্তরের কোণ নকশায় পাঠান। দেওয়াল সরালেই প্ল্যানার প্রতিটি ঘর পড়ে ফেলে: সেটি কোন দিকে, রান্নাঘর, ঠাকুরঘর, শৌচাগার, সিঁড়ি আর সদর দরজা প্রথা মতো জায়গায় আছে কিনা, জমির আয়াদি গণনা কী বলছে।

প্রতিকার, রং আর ছাপা প্রতিবেদন

বাড়ি ভেঙে আবার গড়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়, বাস্তু তা চায়ও না। প্রতিকারের পাতায় প্রতিটি দিকের জন্য শাস্ত্র আর পারিবারিক রীতি অনুযায়ী সহজ সংশোধন আছে: খাট বা উনুনের জায়গা বদলানো, চৌকাঠে তামার পাত, ঈশানে তুলসীমঞ্চ, নৈর্ঋতে ভারী আলমারি, সন্ধেয় প্রদীপ। রঙের নির্দেশিকা দিক আর ভূত মেনে রঙের নাম বলে দেয়। বাস্তু প্রতিবেদন আপনার নকশা, দিকের ছবি, ঘর ধরে ফল, দেবতা মণ্ডল আর প্রতিকার বাংলায় ছেপে দেয়। কোষ্ঠীর সঙ্গে বাড়ি দেখতে আছে অ্যাস্ট্রোবাস্তু, ধাপে ধাপে শিখতে আছে অ্যাকাডেমি।

আপনার বাড়ির বাস্তু বিচার নিন

  1. নকশা আঁকুন. প্ল্যানারে ঘর মাপ মতো আঁকুন বা ছবি তুলুন।
  2. আসল উত্তর ঠিক করুন. বাড়ির মাঝখানে কম্পাস খুলে কোণ পাঠান।
  3. দিকের ফল পড়ুন. প্রতিটি ঘর ষোলোটির কোন দিকে তা দেখুন।
  4. প্রতিকার করে ছাপুন. প্রতিকার আর রং বেছে বাস্তু প্রতিবেদন ছাপুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাস্তুশাস্ত্র কী?

গৃহনির্মাণের প্রথাগত ভারতীয় বিদ্যা, যা প্রতিটি ঘর দিক আর ভূত মেনে সাজিয়ে বাড়িতে স্বাস্থ্য, শান্তি আর সমৃদ্ধি ধরে রাখে।

বাস্তু বিচার কি বিনামূল্যে?

হ্যাঁ। নকশা আঁকা, উত্তর ঠিক করা আর ঘর ধরে ফল দেখা বিনামূল্যে। বিস্তারিত ছাপা প্রতিবেদন মূল্য দিয়ে নিতে হয়।

স্থপতির নকশা কি লাগবে?

না। মাপ মতো সাধারণ খসড়াই যথেষ্ট, যে কোনও নকশার ছবিও তোলা যায়।

আসল উত্তর কীভাবে জানব?

বাড়ির মাঝখানে, লোহা থেকে দূরে, ফোনে কম্পাসের পাতা খুলে কোণ পাঠান।

সদর দরজা কোন দিকে শুভ?

উত্তর, পূর্ব আর ঈশান শুভ বলে প্রথা, তবে দেওয়ালে দরজার পদ আরও গুরুত্বপূর্ণ। দেবতা মণ্ডল সব ৩২টি দ্বার দেখায়।

রান্নাঘর কোথায় হবে?

অগ্নির স্থান অগ্নিকোণে, অর্থাৎ দক্ষিণ পূর্বে। দ্বিতীয় বিকল্প বায়ুকোণ।

বাড়িতে বাস্তুদোষ থাকলে?

বেশিরভাগ দোষ দেওয়াল না ভেঙেই কমে, আসবাব সরিয়ে, রং, গাছ, ধাতুর পাত বা প্রদীপে।

ফ্ল্যাটেও কি বাস্তু খাটে?

হ্যাঁ। ফ্ল্যাটের ভেতরেও সেই ষোলোটি দিকই খাটে।

প্রতিবেদন কি বাংলায় পাব?

হ্যাঁ। প্রতিবেদন আর এই পাতার প্রতিটি ফল আপনার বেছে নেওয়া ভাষায় আসে।