বিষয়বস্তুতে যান

দিনচর্যা

দিনের ছন্দে বাঁধা দিনচর্যা

দিনচর্যা, অর্থাৎ আয়ুর্বেদের রোজকার ক্রম, দিনকে সাজায় সূর্যোদয়, মধ্যাহ্ন আর সূর্যাস্ত ঘিরে। এই দিনচর্যা চলে আপনার শহরের সময় আর বারের অধিপতি গ্রহ ধরে, ঘুম ভাঙা, প্রার্থনা, কাজ, আহার, চলাফেরা আর বিশ্রামের জন্য পরামর্শ দিয়ে।

ব্রাহ্মমুহূর্ত

সূর্যোদয়ের আগের দেড় ঘণ্টা ব্রাহ্মমুহূর্ত, ধ্যান, পড়াশোনা আর প্রার্থনার জন্য মূল্যবান। ঋষিরা বলতেন, এই সময় জগতের প্রাণ সবচেয়ে শুদ্ধ, মন সবচেয়ে নির্মল। দিনচর্যা আপনার শহরের জন্য তার শুরু দেখায়, সূর্যোদয়ের প্রায় ছিয়ানব্বই মিনিট আগে।

সকাল

ঘুম থেকে উঠে দাঁত আর জিভ পরিষ্কার করা, ঈষদুষ্ণ জল খাওয়া, একটু হাঁটা বা উদীয়মান সূর্যের দিকে সূর্যপ্রণাম, আর প্রার্থনার আগে স্নান, এই প্রথার পরামর্শ। সূর্যোদয়ে সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়া রোজকার সহজ উপাসনা: জেগে ওঠা আলোকে কৃতজ্ঞতায় গ্রহণ করা।

মধ্যাহ্ন

প্রধান আহার দুপুর বারোটা নাগাদ সবচেয়ে ভালো, কারণ আয়ুর্বেদ মতে তখন জঠরাগ্নি সবচেয়ে প্রবল। স্থানীয় মধ্যাহ্ন ঘিরে অভিজিৎ মুহূর্ত, আর পঞ্জিকার অমৃতযোগ বা মাহেন্দ্রযোগ, জরুরি কাজের জন্যও শুভ।

বিকেল আর সন্ধ্যা

বিকেল স্থির কাজ আর বাইরের কাজের জন্য উপযুক্ত। সূর্যাস্তে তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালুন, শাঁখ বাজান, প্রণাম করুন, তারপর রাত হালকা আর শান্ত রাখুন।

বার অনুযায়ী

প্রতিটি বারের একটি অধিপতি গ্রহ আর রং আছে। রবিবার সূর্যের, আদিত্যহৃদয় আর লাল বা কমলা; সোমবার চাঁদের, শিবপুজো আর সাদা; মঙ্গলবার মঙ্গলের, মঙ্গলচণ্ডী বা হনুমান আর লাল; বুধবার বুধের, নারায়ণ আর সবুজ; বৃহস্পতিবার বৃহস্পতির, ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর পাঁচালি আর হলুদ; শুক্রবার শুক্রের, সন্তোষী মা বা লক্ষ্মী আর সাদা বা গোলাপি; শনিবার শনির, শনিপুজো বা হনুমান আর গাঢ় নীল।

ঋতু অনুযায়ী

দিনচর্যা ঋতুর সঙ্গে আলতোভাবে বদলায়: গ্রীষ্মে হালকা আহার আর তাড়াতাড়ি বিশ্রাম, শীতে গরম খাবার আর তেলমালিশ।

সহজ রাখুন

দুটি অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন: সূর্যোদয়ের আগে ওঠা আর সন্ধ্যাপ্রদীপ। বাকিগুলি সহজ হয়ে এলে যোগ করুন।

সারাদিনের দোষ

আয়ুর্বেদ দিনকে দোষ অনুযায়ী ভাগ করে। সকাল ছটা থেকে দশটা কফ প্রবল, তাই চলাফেরায় ভার কাটে। দশটা থেকে দুটো পিত্ত বাড়ে, সেই জন্যই দুপুরে হজম সবচেয়ে ভালো। দুটো থেকে ছটা বায়ু এগিয়ে থাকে, সৃজনশীল আর মননের কাজের ভালো সময়। রাতে চক্র আবার ঘোরে: সন্ধ্যা ছটা থেকে দশটা কফ, তাই দশটার আগে সহজে ঘুম আসে; দশটা থেকে দুটো পিত্ত, যখন দেহ হজম করে আর মেরামত করে; আর দুটো থেকে ছটা বায়ু, তাই ব্রাহ্মমুহূর্তে জাগা হালকা আর স্বচ্ছ লাগে।

বারের উপবাস

কিছু পরিবার যে গ্রহকে সম্মান জানাতে চান তার বারে উপবাস রাখেন: চাঁদ আর শিবের জন্য সোমবার, বৃহস্পতির জন্য বৃহস্পতিবার, শনির জন্য শনিবার। আপনি বেছে নিলে দিনচর্যা উপবাসের বার চিহ্নিত করে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

দিনচর্যা কী?

আয়ুর্বেদের রোজকার ক্রম।

ব্রাহ্মমুহূর্ত কী?

সূর্যোদয়ের আগের প্রায় ছিয়ানব্বই মিনিট।

সময় কি আমার শহর ধরে?

হ্যাঁ, আপনার স্থানীয় সূর্যোদয়, মধ্যাহ্ন আর সূর্যাস্ত থেকে।

অর্ঘ্য কী?

উদীয়মান সূর্যকে জল নিবেদন।

প্রধান আহার কখন?

দুপুর বারোটা নাগাদ।

আজ কোন রং মানায়?

বারের গ্রহের রং, পাতায় দেখানো।

সূর্যপ্রণাম কি জরুরি?

পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে হাঁটাও চলে।

দিনচর্যা কি ঋতুর সঙ্গে বদলায়?

হ্যাঁ, ঋতুর সঙ্গে আলতোভাবে।

অল্প দিয়ে শুরু করা যায়?

হ্যাঁ। ভোরে ওঠা আর সন্ধ্যাপ্রদীপ দিয়ে শুরু করুন।

জন্মকুণ্ডলী লাগে?

না। থাকলে আপনার দশাপতির উপাসনা যোগ হয়।

মনে করানো যায়?

হ্যাঁ, ব্রাহ্মমুহূর্ত, সূর্যোদয়, মধ্যাহ্ন আর সূর্যাস্তের জন্য।

চাকুরিজীবীদের জন্য উপযুক্ত?

হ্যাঁ। প্রতিটি ধাপের ছোট রূপ আছে।

এটা কি দেহের যত্নের বিকল্প?

প্রথা বলে, গ্রহ পথ দেখায়, পথ হাঁটে মানুষ: দিনচর্যা অভ্যাসকে দিশা দেয়, আর দেহের যত্ন থাকে অভিজ্ঞ কবিরাজের হাতে।

সূর্যোদয়ের আগে কেন উঠব?

ভোরের আগের বায়ুর প্রহর হালকা ভাব আর স্বচ্ছতা আনে, যা প্রথা পড়াশোনা আর প্রার্থনার জন্য মূল্যবান মানে।

শনিবার কোন উপাসনা?

হনুমানের প্রার্থনা, তিলের তেলের প্রদীপ, আর বয়োজ্যেষ্ঠ বা শ্রমজীবীদের সেবা।