বিষয়বস্তুতে যান

প্রতিকার

প্রতিকার পরিকল্পনা

একটি সমস্যার জন্য মন্ত্র, দান, উপবাস ও রত্ন মিলিয়ে ধাপে ধাপে প্রতিকার পরিকল্পনা.

প্রতিকার পরিকল্পনা

প্রতিকার পরিকল্পনা

প্রতিকার পরিকল্পনা: সপ্তাহে সাজানো সাধনার ক্রম

কিছু প্রতিকার ক্রম মেনে করলে বেশি ফল দেয়: কয়েক সপ্তাহ একটি সাধনা, তারপর পরেরটি, আপনার দশা ও গোচরের গ্রহ যে ক্রম ঠিক করে সেই অনুযায়ী। প্রতিকার পরিকল্পনা একে পঞ্জিকার মতো সাজায়, যাতে প্রতি সপ্তাহে কী করবেন আর কেন, তা জানা থাকে। চাঁদ যেমন জোয়ার ধীরে ধীরে আনে, তেমনই স্বস্তি আসে নিয়মিততায়, এই কথা পরম্পরা বলে।

ক্রম কেন

একাধিক গ্রহের শান্তি দরকার হলে পরম্পরার পরামর্শ, যার দশা চলছে তাকে দিয়ে শুরু করে তারপর অন্যদের দিকে যাওয়া। যেমন শনির মহাদশায় রাহুর অন্তর্দশা চললে অন্তর্দশার সময় রাহুর সাধনা আগে, সঙ্গে শনির হালকা সাধনা।

পরিকল্পনা কীভাবে তৈরি হয়

পরিকল্পনা আপনার চলতি মহাদশা ও অন্তর্দশা, সাড়েসাতি বা অষ্টম শনি থাকলে তা, প্রযোজ্য হলে মঙ্গলদোষ, এবং কুষ্ঠির দুর্বল গ্রহ পড়ে। সে সাধনাগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাজায় এবং প্রত্যেককে তার বার দেয়।

একটি সাধারণ পরিকল্পনা

প্রথম থেকে ষষ্ঠ সপ্তাহ: শনিবার তিলের তেলের প্রদীপ আর শনি মন্ত্র একশো আট বার। তৃতীয় সপ্তাহ থেকে: মঙ্গলের জন্য মঙ্গলবার মঙ্গলচণ্ডীর পুজো। প্রতি পূর্ণিমায়: পরিবারের সঙ্গে সত্যনারায়ণের পাঁচালি। সন্ধ্যায় প্রদীপ আর শাঁখের ধ্বনিতে দিন শেষ হোক। পঞ্জিকা প্রতিটি দিন লিখে রাখে।

তীর্থদর্শন

শনির জন্য পাড়ার শনি মন্দির, রাহুর জন্য কালীঘাট বা তারাপীঠ, কিংবা মঙ্গলের জন্য মঙ্গলচণ্ডীর থান, এমন দর্শনের কথা থাকলে পরিকল্পনা সবচেয়ে ভালো দিন জানায়, প্রায়ই গ্রহের বার বা বিশেষ তিথি।

দান

যেখানে মানায় দান যোগ হয়: শনিবার তিল আর কালো কাপড়, অভাবীকে অন্ন, কিংবা মন্দির বা পাঠশালায় সাহায্য।

পরিকল্পনায় বদল

নতুন অন্তর্দশা শুরু হলে পরিকল্পনা নতুন হয় এবং জানায় কোন সাধনা চলবে আর কোনটি বদলাবে।

শান্ত থাকুন

পরিকল্পনা শৃঙ্খলার জন্য, চাপের জন্য নয়। কোনো সাধনা ভারী লাগলে তার সবচেয়ে সহজ অংশটুকু রাখুন এবং নিয়মিত করুন। গ্রহ ঝোঁক দেয়, পথ হাঁটে মানুষ।

একটি উদাহরণ

শনির মহাদশা ও রাহুর অন্তর্দশা চলা একজনকে ধরুন, যার শনি এখন চন্দ্র থেকে দ্বাদশ রাশিতে, অর্থাৎ সাড়েসাতির প্রথম পর্বে। পরিকল্পনা শুরু হবে রাহুর আট সপ্তাহের সাধনা দিয়ে: শনিবার রাহুকালে মা দুর্গার প্রার্থনা ও প্রদীপ, নীল কাপড় দানের সঙ্গে। পাশাপাশি শনির হালকা সাধনা হিসেবে প্রতি শনিবার হনুমান চালিসা। চতুর্থ সপ্তাহে কোনো শনিবার তারাপীঠ দর্শনের কথা থাকে। প্রতি মাসে পূর্ণিমায় পরিবারের সত্যনারায়ণ পুজো চক্র পূর্ণ করে।

অগ্রগতির হিসাব

প্রতিদিন আপনি সাধনা শেষ হওয়ার চিহ্ন দেন। পরিকল্পনা দেখায় কত দিন পালন হল, আর শেষ হলে ছোট সমাপ্তি প্রার্থনা ও দানের কথা বলে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রতিকার পরিকল্পনা কী?

আপনার কুষ্ঠি থেকে সপ্তাহে সাজানো প্রতিকারের ক্রম।

ক্রম কীভাবে ঠিক হয়?

আগে চলতি মহাদশা ও অন্তর্দশা, তারপর অন্য পীড়া।

পরিকল্পনা কত দীর্ঘ?

সাধারণত ছয় থেকে বারো সপ্তাহ, সময় বদলালে নতুন।

জন্মকুষ্ঠি লাগে?

হ্যাঁ। পরিকল্পনা তা থেকেই তৈরি।

পরিকল্পনা থামানো যায়?

হ্যাঁ, আর সাধনার পরের বারে আবার শুরু করা যায়।

তীর্থদর্শন থাকে?

যেখানে মানায়, সবচেয়ে ভালো দিন সহ।

দান থাকে?

হ্যাঁ, প্রতিটি গ্রহের উপযোগী।

সব না পারলে?

সবচেয়ে সহজ সাধনাটি নিয়মিত করুন।

পরিকল্পনা বদলাবে?

হ্যাঁ, নতুন অন্তর্দশা শুরু হলে।

পরিবারের জন্য পরিকল্পনা হয়?

হ্যাঁ, তাঁদের রাখা কুষ্ঠি থেকে।

মনে করিয়ে দেওয়া হয়?

হ্যাঁ, সাধনার প্রতিটি দিনে।

প্রতিকার সামগ্রী কি আবশ্যক?

তা সহায়ক কিন্তু ঐচ্ছিক; পরিকল্পনা ঘরে থাকা জিনিসের তালিকা দেয়।

অন্তর্দশার গ্রহ দিয়ে শুরু কেন?

তার সময় এখন সবচেয়ে সক্রিয়, তাই পরম্পরা তাকে অগ্রাধিকার দেয়।

পরিকল্পনায় উপবাস থাকতে পারে?

হ্যাঁ, গ্রহের বারে, আপনি চাইলে।

শেষে কী হয়?

সমাপ্তি প্রার্থনা ও দানে পূর্ণতা হয়।